জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলায় পাঁচ বছরের দণ্ডাদেশ পাওয়া বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া জামিনের আবেদন করলে দুদক তার বিরোধিতা করবে।

দুদকের আইনজীবী মোশাররফ হোসেন কাজল সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে সাংবাদিকদের এই তথ্য জানিয়েছেন।

 

 

দুদকের আইনজীবী বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটের দিকে ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের কর্মচারীদের কাছ থেকে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করেন।

 

কপি সংগ্রহ করার পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মোশাররফ হোসেন কাজল বলেন, ‘আজ রায়ের সত্যায়িত অনুলিপি সংগ্রহ করলাম। এখন এটি দুদকের সংশ্লিষ্ট শাখায় পাঠানো হবে। ওখান থেকে রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সিদ্ধান্ত এলে আমরা আপিল করব।’

 

 

 

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘খালেদা জিয়া আদালতে জামিনের আবেদন করলে আমাদের কাছে একটি কপি পাঠাবে। সেই কপি পাওয়ার পর আমরা জামিনের বিরোধিতা করব।’

কাজল আরো বলেন, ‘আমরা খালেদা জিয়ার সাজা চেয়েছিলাম যাবজ্জীবন। কিন্তু আদালত তাঁর বয়স বিবেচনায় দিয়েছেন পাঁচ বছর সাজা। সেই বিষয়ে আমরা দুদকের সাথে যোগাযোগ করে আপিল দায়েরের সিদ্ধান্ত নিব।’

 

 

কাজলের আগে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায়ের সত্যায়িত কপি সংগ্রহ করেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার আইনজীবীরা।

ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের পেশকার মো. মোকাররম হোসেন জানান, ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলার রায় ঘোষণা করেন ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান। রায়টি ছিল ৬৩২ পৃষ্ঠার। আজ রায়ের এক হাজার ১৭৪ পৃষ্ঠার সত্যায়িত কপি খালেদা জিয়ার আইনজীবীদের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

 

এদিকে রায়ের সত্যায়িত কপি পাওয়ার পর বিএনপি-সমর্থিত আইনজীবীরা আদালত প্রাঙ্গণে মিছিল করেন।

রায়ের সত্যায়িত কপি দিয়ে হাইকোর্ট বিভাগে আপিল করবেন বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। ওই আপিলে জামিনের আবেদন করা হবে। জামিন মঞ্জুর করা হলে ওই আদেশ ঢাকার পঞ্চম বিশেষ জজ ড. আখতারুজ্জামানের আদালতে পাঠানো হবে। এর পরে আদালতে আবার জামিননামা দাখিলের অনুমতি চাইবেন আইনজীবীরা। বিচারক ওই জামিননামা দেওয়ার অনুমতি দিলে খালেদা জিয়ার পক্ষে মুচলেকা (বন্ড) দিতে হবে। তখন একটি রিলিজ আদেশ কারাগারে পাঠানো হবে। ওই রিলিজ আদেশ পাওয়ার পর কারা কর্তৃপক্ষ খালেদা জিয়াকে মুক্তি দেবেন, যদি অন্য মামলায় গ্রেপ্তার না হন।

 

 

 

গত ৮ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরান ঢাকার বকশীবাজারে স্থাপিত বিশেষ জজ আদালতের বিচারক ড. আখতারুজ্জামান জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছর এবং সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান, মাগুরার সাবেক সংসদ সদস্য (এমপি) কাজী সলিমুল হক কামাল, ব্যবসায়ী শরফুদ্দিন আহমেদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক সচিব কামাল উদ্দিন সিদ্দিকী ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভাগ্নে মমিনুর রহমানকে ১০ বছর করে কারাদণ্ডাদেশ এবং দুই কোটি ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়।

সাজা ঘোষণার পর খালেদা জিয়াকে নাজিমুদ্দিন রোডের পুরোনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়। রায় ঘোষণার তিন দিন পর আদালতের নির্দেশে তাঁকে ডিভিশন বা প্রথম শ্রেণির বন্দির মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়।

সূত্রঃ বিডি২৪লাইভ

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ